Follow Us
সচিব, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ

মহাপরিচালক, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর

প্রকল্প পরিচালক, এসটিইপি



বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় বাস্তবায়নাধীন স্কিলস এ্যান্ড ট্রেনিং এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট (STEP) ২০১৪ সাল থেকে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবিত বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে স্কিলস কম্পিটিশন আয়োজন করে আসছে।


প্রতিযোগিতাটির অন্যতম উদ্দেশ্য হছে কারিগরি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশের পথ প্রশস্ত করা, শিল্প-সংযোগ সুদৃঢ় করা এবং কলকারখানাসমূহকে উদ্ভাবনী প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করার মধ্য দিয়ে দেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রযাত্রায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখা। কারিগরি শিক্ষাঙ্গণের সর্ববৃহৎ ও অনন্য এ প্রতিযোগিতাটি ৩টি পর্বে অনুতি হয়- প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়, আঞ্চলিক পর্যায় এবং জাতীয় পর্যায়। এছাড়া শুরুতেই ঢাকাতে একটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।


প্রতিযোগিতাটির প্রথম পর্ব অর্থাৎ প্রতিষ্ঠান পর্যায়ের প্রতিযোগিতা সরকারি-বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের স্ব স্ব প্রাঙ্গণে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে একযোগে অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইনস্টিটিউটসমূহের প্রত্যেকটি টেকনোলজি বা বিভাগ থেকে একাধিক প্রতিযোগী একক অথবা দলগতভাবে অংশগ্রহণ করে। প্রত্যেক পলিটেকনিকের অধ্যক্ষের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি দেশ, সময় ও বাজারের চাহিদার প্রেক্ষিত বিবেচনায় রেখে মেধা, মনন ও সৃজনশীলতার ভিত্তিতে তিনটি করে সেরা প্রকল্প নির্বাচন করে থাকে।


আঞ্চলিক পর্বের প্রতিযোগিতা আয়োজনের সুবিধার্থে সারাদেশকে ১৩টি অঞ্চলে ভাগ করা হয়। প্রত্যেক অঞ্চল থেকে প্রকল্পের আওতায় গ্রান্ট প্রাপ্ত একটি প্রতিষ্ঠান এ প্রতিযোগিতা আয়োজনের দায়িত্ব পালন করে। ১৩টি আয়োজক প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ক্যাম্পাসে স্কিলস কম্পিটিশনের আঞ্চলিক পর্ব একযোগে অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষে সবগুলো অঞ্চলে প্রতিযোগিতার দিন একটি বণার্ঢ্য র্যা লি ও কারিগরি শিক্ষা বিষয়ক একটি করে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। আঞ্চলিক পর্বের প্রতিযোগিতা থেকে সেরা ৫২টি উদ্ভাবনী প্রকল্প চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য নির্বাচন করা হয়।


স্কিলস কম্পিটিশনের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা বা জাতীয় পর্ব ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়। এ দিন সকালে একটি বর্ণাঢ্য র্যা লি বের করা হয় এবং প্রতিযোগিতার ভেন্যুতে কারিগরি শিক্ষা বিষয়ক একটি সেমিনার আয়োজন করা হয়। সম্ভাবনাময় উদ্ভাবনী প্রকল্পের বাণিজ্যিক উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে তাৎক্ষণিক সহযোগিতা প্রদানের লক্ষ্যে দেশের বিশি শিল্পপতিগণ স্বশরীরে উপস্থিত থাকেন। একইসাথে মেধাস্বত্ব সংরক্ষণে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সহায়তা প্রদানের উদ্দেশ্যে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়।


এ পর্যন্ত চারবার স্কিলস কম্পিটিশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সর্বশেষ Skills Competition 2017 এর চুড়ান্ত পর্বের প্রতিযোগিতায় খুলনার হোপ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের নাজমুল হুদা, সুব্রত করালী ও আব্দুল্লাহ আল মামুন হুইল স্প্রে পাম্প যা কৃষি জমিতে একসাথে একাধিক স্প্রে ভাল্বের সাহায্যে সুষমভাবে যে স্প্রে করা সম্ভব তা আবিষ্কার করে প্রথম স্থান লাভ করে।


মডেল ইনস্টিটিউট অব সাইন্স এ্যান্ড টেকনোলজি, গাজিপুর-এর মোঃ নাদিম খাদ্যে ভেজাল নির্ণয় ও বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা যাবে এমন একটি ডিজিটাল হেল্থ সেফটি রোবট আবিষ্কার করে দ্বিতীয় স্থান লাভ করে।


খুলনা মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিলামনি, জান্নাতুল ফাতিমা ও হাসনা বিনতে সিথী দূষিত বাযু বা দূষিত ধোঁয়ায় দূষক পদার্থের ঘনত্ব বেশি থাকে যা এই যন্ত্রের সাহায্যে কমিয়ে আনা সম্ভব তা আবিষ্কার করে তৃতীয় স্থান লাভ করে।


Skills Competition 2016 এর চূড়ান্তপর্বের প্রতিযোগিতায় LS 247 RBT Life Security Robot আবিষ্কার করে চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থীরা প্রথম স্থান অর্জন করে। Water Based Gas Power Plant উদ্ভাবন করে National Science Research and Technology College, Rajshahi দ্বিতীয় স্থান এবং Digital Security System উদ্ভাবনের জন্য Model Institute of Science and Technology, Gazipur এর শিক্ষার্থীবৃন্দ তৃতীয় স্থান লাভ করে।


একই রকমভাবে Skills Competition 2015 এর চূড়ান্তপর্বে রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবিত নেবুলাইজার ও সাকশন মেশিন শীর্ষক প্রকল্পের জন্য ১ম পুরস্কার লাভ করে। প্রতিযোগিতায় ব্রিকফিল্ড কার্বন ফিল্টার শীর্ষক প্রকল্পের জন্য ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা ২য় পুরস্কার এবং রুম সিকিউরিটি কন্ট্রোল সার্কিট শীর্ষক প্রকল্পের জন্য বাংলাদেশ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউ, রাজশাহী ৩য় পুরস্কার লাভ করে।


২০১৪ সালে প্রথম বারের মতো অনুষ্ঠিত Skills Competition 2014 এর চূড়ান্তপর্বে আহসানউল্লাহ কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিউটের শিক্ষার্থীবৃন্দ তাদের উদ্ভাবিত Potato as bio degradable plastic for eco-friendly environment শীর্ষক প্রকল্পের জন্য ১ম পুরস্কার লাভ করে। প্রতিযোগিতায় Reduce Carbon by housing steam শীর্ষক প্রকল্পের জন্য ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা ২য় পুরস্কার এবং Home security system শীর্ষক প্রকল্পের জন্য ঢাকা মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের মেয়েরা ৩য় পুরস্কার লাভ করে।


সৃজনশীল মেধা অন্বেষণের অনন্য এই প্রতিযোগিতা আজ কারিগরি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন কারিগরি শিক্ষার্থীরা তাদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশের সুযোগ পাছে, অপরদিকে দেশের আপামর জনসাধারণ কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা ও সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে জানতে পারছেন এবং উদ্বুদ্ধ হছেন। এভাবেই একদিন আমাদের কারিগরি শিক্ষার্থীরা তাদের মেধা, দক্ষতা ও সৃজনশীলতা দিয়ে বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে, আর তাদের দক্ষ হাতেই গড়ে উঠবে দক্ষ বাংলাদেশ।